ডানিয়েল লর্ড রোজারিও

প্রতিবছর প্রায়শ্চিত্তকাল আসে মন পরিবর্তন বা জীবন পরিবর্তনের আহ্বান নিয়ে। অনুতাপ, অনুশোচনা, ত্যাগস্বীকার ও তপস্যা সাধনার মধ্য দিয়ে পাপময় জীবনের পরিবর্তন, যিশুর ক্রুশীয় মৃত্যু-যাতনা ধ্যান করে নিজেদের পাপের ভয়াবহতা অনুধ্যান করা এবং যিশুর ক্রুশের যাত্রা সঙ্গী হয়ে কালভেরীর শিখর পর্যন্ত তাকে অনুসরণ, তার সাথে আমাদের পাপময় জীবনটাকে কবর দেওয়া এবং তার সাথে নবজীবনে পুনরুত্থিত হওয়ার লক্ষ্যে এই প্রায়শ্চিত্তকাল, এই ৪০ দিনের দীর্ঘ যাত্রা। আর এ বছর আমাদের খ্রিস্টিয় জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় কারণ আমরা এবছর পালন করছি খ্রিস্টের জন্মের ২০২৫ বছরের জুবিলী । আর এ জুবিলী বর্ষের মূলসুর হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ‘আশার তীর্থযাত্রা’।

জুবিলী একজন খ্রিস্টভক্তের জীবনে নবায়িত হবার আশা জাগায়। আর সে নবায়িত হবার একটা উপলক্ষ হলো তীর্থ করা। তীর্থ ধারণাটি স্থানের সাথে সম্পর্কিত যা ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক বা পবিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তীর্থ সাধারণত সেই স্থানগুলোকে নির্দেশ করে যেখানে ধর্মীয় উপাসনা, পূজার্চনা বা আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য যাত্রা করে। পৃথিবীর প্রধান ধর্মগুলোতে তীর্থ করার প্রচলন ও প্রচেষ্টা বেশ দৃঢ়ভাবেই প্রতিষ্ঠিত। হিন্দুধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো গঙ্গা, কাশী, বৃন্দাবন, পূরী প্রভৃতি স্থানে তীর্থ করা। একইভাবে ইসলাম ধর্মে মক্কা-মদিনায় হজ পালন, বৌদ্ধ ধর্মে লুম্বিনী, বোগধারায় তীর্থভ্রমণ ও খ্রিস্টধর্মে জেরুজালেমে এবং রোমে তীর্থ করা।

পবিত্র জুবিলী বর্ষে যখন রোম বা ইউরোপের কোন প্রসিদ্ধ স্থানে তীর্থ করার সুযোগ আসে তখন সকলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ে তীর্থ করতে। তবে যারা তীর্থ করতে চায় তাদের মনে রাখতে হবে তীর্থের কারণ হলো আধ্যাত্মিক উন্নতি, পাপমোচন, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সামাজিক সংযোগ বৃদ্ধিকরণ, ঈশ্বর ধর্মবোধের প্রতি বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা বাড়ানো। তীর্থযাত্রার আধ্যাত্মিকতা গভীরভাবে ধর্মীয় বিশ্বাস, আত্মশুদ্ধি, ঈশ্বরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং মানসিক ও আত্মিক পূর্ণতার সাথে সর্ম্পকিত।

জুবিলী বছর কি তা ভাটিকান ব্যাখা করে বলে, জুবিলী বর্ষ হলো ‘পাপের ক্ষমার বছর, প্রতিপক্ষের সাথে পুনর্মিলনের বছর, মনপরিবর্তন ও পাপস্বীকার সংস্কার গ্রহণের সময় এবং সবার সাথে মিলন, আশা, ন্যায্যতা, এবং আমাদের ভাইবোনদের সাথে আনন্দ সহকারে ও শান্তিতে ঈশ্বরের সেবা করতে সংকল্পবদ্ধ হওয়ার  বছর। তাই জুবিলী বর্ষ একটি আশার বছর যা খ্রিস্টের পৃথিবীতে আগমনের একটি বিশেষ অনুগ্রহের সময়। এটি ঈশ্বরের সাথে, একে অন্যের  সাথে এবং বিশ্বসৃষ্টির সাথে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের যথাযথ সময়।

পোপ ফ্রান্সিস বছরটিকে আশার বছর হিসেবে ঘোষণা দেন যেন আমরা প্রত্যেকে “আশার তীর্থযাত্রী” – বিষয়টির ওপর ধ্যান করতে পারি। জুবিলী উৎসবে স্রষ্টার প্রতি উৎসারিত হয় সুগভীর ধন্যবাদ- যিনি সবকিছুর সৃজনকার ও পালনকার। সৃষ্টির সেরা মানুষ হিসেবে স্বীয় অস্তিত্বেও চরম মূল্যায়ন ও পুনঃমূল্যায়নের সময়কাল এই সাধনার জুবিলী। বিশেষ করে প্রাত্যহিক ও যাপিত জীবনে ঈশ্বর ও প্রতবেশী মানুষের জন্য এই জয়ন্তী উৎসব। আর অধর্ম, অনাচার জয়ের জন্য মানবিক, আধ্যাত্মিক এবং বাস্তব চর্চার সময় হচ্ছে ইহুদীয় ইয়াবেল তথা জুবিলী। তাই ইয়াবেল ধ্বনি মানবজাতির সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বিশ্বাসের সমতাবাদ প্রতিনিধিত্ব করে।
খ্রিস্টমণ্ডলীর বর্ষপুঞ্জিকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কাল হলো প্রায়শ্চিত্তকাল। প্রায়শ্চিত্তকালকে আত্মশুদ্ধি বা মন পরিবর্তনের কাল হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। কেননা মাতা মণ্ডলী চল্লিশ দিন ধরে প্রভু যিশুর জীবন ও বাণী ধ্যান, ক্রুশের পথ, উপবাস, প্রার্থনা ও দয়ার কাজের মধ্য দিয়ে পাপময় জীবন পরিবর্তন করতে এবং পাপবিহীন জীবনযাপন ও নতুন মানুষ হয়ে উঠতে সুযোগ প্রদান করে থাকে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে প্রায়শ্চিত্তকাল
৩২৫ খ্রিস্টাব্দে নিসিয়া ধর্মমহাসভায় ৪০ দিন তপস্যাকালের প্রস্তাব করা হলেও ৩৬০ খ্রিস্টাব্দে লাউডিসিয়ে ধর্মসভার পর থেকে মণ্ডলীতে সর্বত্র ৪০ দিন তপস্যাকাল উদযাপিত হয়ে আসছে। ত্রাণকর্তা প্রভু খ্রিস্টের যাতনাভোগ-মৃত্যু-পুনরুত্থানের প্রস্তুতি হিসেবে খ্রিস্টমণ্ডলীতে তৃতীয় শতাব্দী থেকে প্রায়শ্চিত্তকাল উদযাপিত হয়ে আসছে। খ্রিস্টের চল্লিশ দিন উপবাসের স্মরণে ও অনুকরণে খ্রিস্টভক্তরা চল্লিশ দিন নির্ধারিত করেছিল উপবাস, প্রার্থনা ও প্রায়শ্চিত্তের জন্য। রবিবার দিনগুলোতে উপবাস করা হতো না বলে এবং পুরোপুরি ৪০ দিন উপবাস করার সুযোগ দেওয়ার জন্য মোট ৪৬ দিন প্রায়শ্চিত্তকাল ধার্য করা হয়েছিল। তাছাড়া রবিবার হল প্রভু যিশুর গৌরবময় পুনরুত্থানের স্মরণ দিবস, তাই এ দিনে উপবাস করা হয় না বিধায় ভস্ম বুধবার থেকে পুণ্য শনিবার পর্যন্ত ৪৬ দিন হলেও ৬ রবিাবার (৬ দিন) বাদ দিয়ে ৪০ দিন গণনা করা হয়। কিন্তু পঞ্চম শতাব্দীর শুরুতে তপস্যাকালে উপবাস রাখার উপর অধিক গুরুত্ব প্রদান করা হয়।

তৎকালে উপবাসকালে, এমনকি খ্রিস্টের পুনরুত্থান স্মরণ দিবসেও মাছ, মাংস, ডিম বা আমিষ জাতীয় খাবার গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে এবং দিনে শুধুমাত্র একবার খাবার গ্রহণে অনুপ্রাণিত করা হয়। কিন্তু নবম শতাব্দীতে এ প্রথাটি কিছুটা শিথিল করা হয়। ১৩ শতাব্দীতে উপবাসের সময় তরল ও হাল্কা খাবার গ্রহণ ও ১৫ শতাব্দীতে দুপুরে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে শিথিলতা আনা হয়। আবার ট্রেন্ট মহাসভা উপবাসের চেয়ে অনুতাপ ও দয়ার কাজ, দান ও সৎ কাজ করার ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্ব প্রদান করে। কিন্তু পরবর্তীকালে, পোপ ষষ্ঠ পল ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে ভস্মবুধবার ও পুণ্য শুক্রবারে প্রাপ্তবয়স্কদের বাধ্যতামূলক মাংসাহার ত্যাগের বিধান জারি করেন। এছাড়া অন্যান্য শুক্রবারে মাংসাহার ত্যাগের বিধান দেন।

প্রায়শ্চিত্তকাল বা তপস্যাকালের অর্থ
তপস্যাকালের ইংরেজী প্রতিশব্দ ‘Lent’ শব্দটি এসেছে মধ্যযুগের ইংরেজী প্রতিশব্দ ‘Leinte ’ অথবা Lente থেকে যার অর্থ হল বসন্ত বা (Season of spring) । তাই বলা যায়, তপস্যাকাল হলো পাপ থেকে মন পরিবর্তন ও আত্মশুদ্ধিও বসন্তকাল। প্রভু যিশুখ্রিস্টের যাতনাভোগ, ক্রুশ-মৃত্যু, পুনরুত্থান স্মরণে ও খ্রিস্টভক্তদের আত্মশুদ্ধি, পাপ থেকে মন পরিবর্তনের লক্ষ্যে খ্রিস্টমণ্ডলীর পূজনবর্ষে তপস্যাকালকে অধিক গুরুত্ব প্রদান করে থাকে। ভস্মবুধবারের মধ্য দিয়ে আমরা প্রায়শ্চিত্তকালে প্রবেশ করি। প্রায়শ্চিত্তকাল হলো আত্মশুদ্ধির কাল , তপস্যা বা সাধনার কাল। অন্যকথায় বলা যায় যে তপস্যাকাল হল ঈশ্বরের অনুগ্রহ ও আশির্বাদ লাভের কাল। এই সময় আমরা আমাদের জীবনের কু-প্রবৃত্তি ত্যাগ করি, মন পরিবর্তন করি, দূষিত জীবনের পরিবর্তন ঘটাই এবং জীবনস্বামী প্রভু যিশুর সাথে সংযুক্ত থেকে পথ চলি।

খ্রিস্টমণ্ডলীতে ভস্ম বুধবার পালন
মণ্ডলীর ইতিহাসে গোড়ার দিকে উপাসনালয়ে ভস্মের কিছু কিছু ব্যবহার লক্ষণীয়। তবে ইতিহাস থেকে জানা যায় খ্রিস্টিয় সপ্তম শতাব্দীতে সর্বপ্রথম রোমে আনুষ্ঠানিকভাবে ভস্মবুধবার পালন করা হয়ে থাকে। যিশুর অনুসারীরা তখন নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হৃদয়ে ভস্ম বুধবারে তাদের কপালে ভস্ম মেখে প্রায়শ্চিত্তকালের সূচনা করতেন। আমাদের মাতামণ্ডলী কয়েকটি শতাব্দীতে প্রায়শ্চিত্তকালের সূচনা করতেন প্রায়শ্চিত্তকালের প্রথম রবিবার থেকে কিন্তু পরবর্তীতে পঞ্চম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে প্রায়শ্চিত্তকালকে আরও চারদিন বাড়িয়ে আগের বুধবার থেকে প্রায়শ্চিত্তকাল শুরু করা হয়। পরবর্তীতে এই বুধবারেই প্রায়শ্চিত্তের চিহ্নস্বরূপ কপালে ছাই মাখা হয়।

প্রায়শ্চিত্তকাল ও জুবিলী বর্ষ উভয়ই আমাদের আহ্বান করে পরমেশ্বরের সন্নিকটে ফিরে যাওয়ার জন্য। জুবিলী বর্ষ হলো, পাপের ক্ষমার বছর, প্রতিপক্ষের সাথে পুনর্মিলনের বছর, মনপরিবর্তন ও পাপস্বীকার সংস্কার গ্রহণের সময় এবং সবার সাথে মিলন, আশা, ন্যায্যতা, এবং আমাদের ভাইবোনদের সাথে আনন্দ সহকারে ও শান্তিতে ঈশ্বরের সেবা করতে সংকল্পবদ্ধ হওয়ার  বছর। প্রায়শ্চিত্তকালে আমরা নিজের পাপের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ঈশ্বরের দিকে ফিরে আসতে চাই। তাই ঈশ্বরের দিকে ধাবিত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে প্রায়শ্চিত্তকালে মাতামণ্ডলী আমাদের আহ্বান করে প্রার্থনা, উপবাস ও দয়ার কাজ করতে।

প্রার্থনা: প্রার্থনা হলো একটি সম্পর্ক, যোগাযোগ বা আলাপন। প্রার্থনার মধ্য দিয়ে আমরা পিতা ঈশ্বরের সাথে সর্ম্পক তৈরি করি। আমাদের মনের বাসনা প্রকাশ করি। তবে আমাদের প্রার্থনা কেমন হওয়া উচিত তা যিশু নিজেই আমাদের শিখিয়েছেন। পবিত্র মঙ্গলসমাচারে যিশু আমাদের প্রার্থনা করার নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা যেন প্রার্থনার সময় অযথা কিছু না বলি। কারণ আমাদের কি প্রয়োজন তা পরম পিতা জানেন। তাই তিনি নিজে আমাদের প্রভুর প্রার্থনা শিখিয়ে বলেছেন, আমরা যেন ঈশ্বরের গৌরব করি এবং তার ইচ্ছা পূর্ণ হোক এই কামনা করি, আমরা যেন দৈনিক খাবার খেতে পাই, আমরা যেন অপরাধীকে ক্ষমা করি, আমরা যেন প্রলোভনে না পরি, পিতা ঈশ্বর যেন আমাদের সর্বদা সকল অসত্যেও হাত থেকে রক্ষা করেন এই কামনা করাই হলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রার্থনা।

উপবাস: যিশুর শিক্ষা ও নির্দেশনা হচ্ছে আমরা যখন উপবাস করি তখন আমাদের মধ্যে যেন কোন ভণ্ডামি না থাকে। তাই খ্রিস্টমণ্ডলী আমাদের শিক্ষা দেয় উপবাস শুধুমাত্র খাওয়া-দাওয়া থেকে বিরত থাকা নয় বরং মনের বা হৃদয়ের পরিবর্তন হচ্ছে বড় উপবাস। কারণ আমাদের মন ও হদয় থেকেই বেরিয়ে আসে সকল প্রকার রাগ, অহংকার, হিংসা অর্থ্যাৎ সকল মন্দতা। আমরা যদি নিজের মন্দতা জয় করতে পারি সেটাই একজন খ্রিস্টবিশ্বাসী হিসেবে বড় উপবাস। তাই প্রবক্তা যোয়েল এ প্রসঙ্গে সর্তক করে বলেছেন, “ তোমাদের পোশাক নয় বরং তোমাদের হৃদয়টাই ছিঁড়ে ফেল।

দানকর্ম: একবার দান করে দেখুন অন্তরে শান্তি পাবেন। যা শত টাকা দিয়েও কিনতে পারবেন না। আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজের সাধ্যমত দান করা, পরের কল্যাণ সাধন করা। তবে এই দান কেমন করে করতে হবে তা পবিত্র মঙ্গলসমাচার আমাদের শিক্ষা দেয়। “যখন তুমি কাউকে ভিক্ষা দাও, দেখো, তোমার ডান হাত যে কী করছে, তোমার বাঁ হাত যেন তা জানতে না পারে। তোমার এই ভিক্ষা দান বরং গোপনই থাকুক”( মথি ৬:১)। যিশুখ্রিস্টের একজন সৈনিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের আহ্বান হলো আমরা যেন অন্যের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেই।

জুবিলী বর্ষে প্রায়শ্চিত্তকাল

আলোর দিকে যাত্রা করার জন্য প্রায়শ্চিত্তকালে আমরা আমাদের মানবীয় দুর্বলতা ও ভঙ্গুরতা স্বীকার করে অনুতপ্ত হৃদয়ে আমাদের  ব্যক্তিজীবনে যেসকল কাজ করতে পারি তা হলো:
১. আত্মমূল্যায়নের দ্বারা নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনের পাপময়তা, মন্দতা ও বিবেক বিরোধী কাজকর্ম থেকে নিজেদের বিরত রাখা।
২. খ্রিস্টিয় মূল্যবোধ অনুসারে জীবন-যাপন ও অন্তরের পবিত্রতা লাভের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।
৩. অন্যের মঙ্গল কামনা ও ক্ষমার মনোভাব অর্জনের চেষ্টা করা।
৪.  প্রার্থনা, ভিক্ষাদান ও উপবাসের মধ্য দিয়ে যিশুর কষ্ট ও যাতনাভোগের সহভাগী হতে পারি এবং যিশুর ন্যায় পরস্পরের কষ্টের সাথেও একাত্ম হয়ে কষ্টভোগী সেবকের কষ্টের অভিজ্ঞতায় খাঁটি খ্রিস্টবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারি।
৫. পরিবার, সমাজ ও অন্যান্য ব্যক্তিদের সাথে পারস্পারিক সুসর্ম্পক গড়ে তুলি এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণের মধ্য দিয়ে মিলন সমাজ গড়ে তুলতে পারি।
৬. অন্যের সমালোচনা ও নিন্দা থেকে নিজেকে বিরত রাখা ও সচেতন থাকা
৭. পাপী ও অবিশ্বাসী মানুষের মন পরিবর্তনের জন্য প্রার্থনা করা।
৮. পরিবারে পরস্পরের সাথে মিলন ও সন্ধি স্থাপন।
৯. রোগী, অসুস্থ, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবাযত্ন ও সাহায্য-সহযোগিতা করা।
১০. প্রায়শ্চিতকালীন বিভিন্ন ধ্যান-প্রার্থনায় স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ।
১১. কমপক্ষে যেকোন একটি বদঅভ্যাস ত্যাগ করা।

১২. নিজের অতিরিক্ত খরচ কমিয়ে অভাবী ও দরিদ্র মানুষের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়ানো।

জুবিলী বর্ষের প্রায়শ্চিত্তকালে আলোর তীর্থযাত্রী হতে আমরা বিশেষ যা যা করতে পারি
তীর্থযাত্রা: জুবিলীবর্ষে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো তীর্থযাত্রা করে ঈশ্বরের সঙ্গে একত্রিত হওয়া। তাই আমাদের সামর্থ অনুযায়ী এ পুণ্যবর্ষে দেশে/বিদেশে বিভিন্ন তীর্থস্থানে তীর্থ করতে পারি।
কৃত পাপের জন্য অনুতাপ: আমরা অনেক সময় শয়তানের বশবর্তী হয়ে পাপের অবস্থায় থাকতে অনেক বেশি পছন্দ করি। তবে জুবিলী বর্ষ আমাদের উদাত্ত আহ্বান করে আমাদের পাপের জন্য অনুতাপ ও পাপস্বীকার করতে।
প্রার্থনার মানুষ হওয়া: খ্রিস্টজুবিলী বর্ষে আমাদের জীবনে ঈশ্বরের ভালবাসাপূর্ণ একটি আহ্বান হতে পারে প্রার্থনার মানুষ হওয়া।
সামাজিক ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করা: সমাজে নানা ধরনের সমস্যা বিদ্যমান আর এ সমস্যা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে যুবাদের ভূমিকা অপরিসীম।
ত্যাগস্বীকার দান: পবিত্র বাইবেলে বেশ কয়েক জায়গায় প্রার্থনা,উপবাস ও দান করার কথা বলা হয়েছে । আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও সমস্যার সম্মুখীন। জুবিলী বর্ষ আমাদের আহ্বান করে ত্যাগস্বীকার ও দানের মাধ্যমে ঈশ্বরের সৃষ্টির যত্ন নিতে।

প্রার্থনা, উপবাস ও দয়াকাজে নিজেকে বেশি করে নিবিষ্ট করতে পারলেই আমরা আমাদের মধ্যকার হিংসা-দ্বেষ, মনোমালিন্য, বিবাদ-বিশৃঙ্খলা, অনৈতিক জীবন-যাপন, ভোগবিলাসিতা, পরশ্রীকাতরতা, পরনিন্দা, খ্রিস্টিয় জীবনে উদাসীনতাসহ আরো অনেক মন্দতা পরিহার করে পারস্পারিক সম্মান ও ভালবাসায় সুন্দর খ্রিস্টিয় জীবন গড়ে তুলতে পারব। তপস্যাকালে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করাই আমাদের তপস্যা হয়ে উঠুক। আসুন আমরা জুবিলী বর্ষের প্রায়শ্চিত্তকালে আলোর দিকে যাত্রা করি। আসুন খ্রিস্টের আলোয় নিজেকে আলোকিত করি, অন্যকে আলোকিত হতে সহায়তা করি।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার
১) প্রায়শ্চিত্তকালীন প্রার্থনা সহায়িকা ২০২২
২) সাপ্তাহিক প্রতিবেশী ২০২৩ , ৭ম সংখ্যা
৩) জুবিলী বাইবেল ও মঙ্গলবার্তা।
৪) ফাদার সুনীল রোজারিও, বড়দিন: খ্রিস্ট জুবিলী বর্ষে আশার তীর্থ, সাপ্তাহিক প্রতিবেশী, বড়দিন সংখ্যা ২০২৪।
৫) মঙ্গলবার্তা ও জুবিলী বাইবেল।
৬) জুবিলী বর্ষ ২০২৫: আশার তীর্থযাত্রী, সাপ্তাহিক প্রতিবেশী,সংখ্যা ২,২০২৫
৭) https:// www.jubiliaeum2025.va/en.htm
৮) কাথলিক মণ্ডলীর ধর্মশিক্ষা, বাংলাদেশ কাথলিক বিশপ সম্মিলনী, ঢাকা, ১৯৯০

 

Please follow and like us: