সংবাদাতা: ফাদার স্বপন পিউরিফিকেশন
ধর্মপ্রদেশীয় যাজকীয় ও ব্রতধারী ও ব্রতধারিণীদের জন্য কমিশনের উদ্যোগে ‘ব্রতীয় জীবনে মিলনের সাধনা: সংহতি ও অন্তর্ভূক্তি’ – মূলসুরের ওপর ভিত্তি করে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশে সেবারত সিস্টারদের জন্য খ্রিস্টজ্যোতি পালকীয় সেবাকেন্দ্রে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ১৮ থেকে ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত সেমিনারে
৩৭ জন সিস্টার অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানসূচীতে ছিলো পবিত্র ক্রুশের আরাধনা, অতিথিদের আসন গ্রহণ, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, উদ্বোধনী নৃত্যসহ অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা, উক্ত কমিশনের আহ্বায়ক ফাদার মাইকেল কোড়াইয়ার স্বাগত-শুভেচ্ছা বক্তব্য, খ্রিস্টজ্যোতি পালকীয় সেবাকেন্দ্রের পরিচালক ফাদার সাগর কোড়াইয়ার শুভেচ্ছা বক্তব্য, সিস্টার জাসিন্তা ক্রুজ, এসসির স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক পরিচিতিপর্ব।
খ্রিস্টযাগে পৌরহিত্য করেন চ্যান্সেলর ফাদার প্রেমু রোজারিও। তিনি সংঘবদ্ধ জীবনের মিলনের কয়েকটি দিক তুলে ধরে বলেন, স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে ওঠে সেবাকাজ, ক্ষমা আদান-প্রদানের সংস্কৃতি চর্চা, সহভাগিতা-সহযোগিতা-সহমর্মিতা, লোভের ঊর্ধ্বে ওঠে কাজ করা, সমালোচনা পরিহার করে সমর্থন করতে হবে পরস্পর পরস্পরকেও গ্রহণীয় মনোভাব রাখতে হবে। আর এইগুলো করতে পারলে আমাদের সংঘবদ্ধ জীবনে মিলন, অংশগ্রহণ ও প্রেরণ দায়িত্ব আরও সক্রিয় হবে।
মূলভাবের ওপর সহভাগিতা করেন সিস্টার হেলেন. এসসি। তার উপস্থাপনায় কয়েকটি দিক উঠে আসে- সংঘবদ্ধ জীবনের প্রেরণা হলো আদিমণ্ডলীর খ্রিস্টভক্তদের সংঘবদ্ধ জীবন, একমন-একপ্রাণ-একচিত্ত- মিলেমিশে জীবন যাপন করাই হলো সংঘবদ্ধ জীবন। একে অপরের প্রতি যত্নশীল হওয়াই হলো সংঘবদ্ধ জীবন, পরষ্পরের সাথে সুখে জীবন যাপন-দায়িত্ব নেয়া পরস্পরের-ভাল-মন্দের অংশীদার হওয়াই হলো সংঘবদ্ধ জীবন। তিনি সংঘবদ্ধ জীবনের কয়েকটি দায়িত্বের বিষয় তুলে ধরেন।
উপস্থাপনা আলোকে দুইটি প্রশ্নকে সামনে রেখে তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে দলীয় আলোচনা করা হয়। দলীয় আলোচনার পর প্রতিবেদনে যা উঠে সিস্টারদের মধ্যে সহভাগিতার-সহযোগিতার অভাব, কনভেন্টে প্রার্থনা-নিয়মের সাথে ধর্মপল্লীর পালকীয় সেবার সময়ের হেরফের হওয়া, পদ্ধতিগত কাঠামোর অভাব, ত্যাগস্বীকারের মনোভাবের অভাব, কর্ম-পরিকল্পনার অভাব, একচেটিয়া মনোভাব, পরিবারে পিতা-মাতাদের সহযোগিতার অভাব, আন্তরিকতার অভাব, গ্রহণীয় মনোভাবের অভাব, মিডিয়ার সঠিক ব্যবহারের অভাব, সৃজনশীলতার অভাব, উপকরণের অভাব ও বদ্ধ মূল ধারণা পোষণ করা বিষয় ওঠে আসে।
নবাই বটতলা, আন্ধারকোঠা ধর্মপল্লী ও পদ্মা নদীর পাড়ে প্রার্থনা ও আনন্দ ভ্রমণ এবং বিশপ মহোদয় সমাপনী খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন। তিনি বলেন, ঈশ্বর ও পরস্পরের সাথে মিলনই হলো ব্রতীয় জীবনে সত্যিকারের মিলন, সকলকে সঙ্গে রাখা-একসাথে রাখা কাউকে বাদ দিয়ে নয় এটাই হলো অন্তর্ভূক্তি এবং অন্যের সাথে এক হওয়াই সংহতি। একে-অপরকে বোনের মতো দেখা ও নিজেদের জীবনের অংশী মনে করাই আমাদের মিলনের সাধনার যর্থাথতা প্রকাশ করা।