সংবাদদাতা: ফাদার বিনেশ তিগ্যা
২০২৭ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ কোরিয়াতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব যুব দিবস। আর সে প্রস্তুতিস্বরূপ বিশ্ব যুব ক্রুশ এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে আগত বিশ্ব যুব ক্রুশ দিনাজপুর ধর্মপ্রদেশের অন্তর্গত ধানজুড়ি ধর্মপল্লী হয়ে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশে আসে। ৩১ মার্চ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ঘেঁষা যিশু হৃদয়ের ধর্মপল্লী বেনীদুয়ারে ভোর রাত্রিতে বিশ্ব যুব ক্রুশের আগমন ঘটে। এছাড়াও ১ এপ্রিল রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের মধ্য ভিকারিয়ার কাথিড্রাল এবং ২ এপ্রিল দক্ষিণ ভিকারিয়ার বনপাড়া ধর্মপল্লীতে আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বিশ্ব যুব ক্রুশকে বরণ করা হয়।
রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের এই তিনটি ধর্মপল্লীতে ফাদার, সিস্টার, পালকীয় পরিষদ, যুবা ও খ্রিস্টভক্তগণ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বিশ্ব যুব ক্রুশকে বরণ করে নেন। বেনীদুয়ার ধর্মপল্লীতে আদিবাসী ভক্তিমূলক মুণ্ডারী গান, বাজনা এবং নাচের মাধ্যমে যুব ক্রুশকে গির্জাঘরের নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করা হয়। বেনীদুয়ার ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত ফাদার মাইকেল কোড়াইয়া বিশ্ব যুব ক্রুশে ধূপারতি করেন এবং উপস্তিত খ্রিস্টভক্তদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা ও ধ্যানমূলক সংক্ষিপ্ত বাণী রাখেন। প্রত্যেকটি ধর্মপল্লীতেই বিশ্ব যুব ক্রুশ বরণ অনুষ্ঠান শেষে পবিত্র ক্রুশের অর্চনা ও খ্রিস্টযাগ অনুষ্ঠিত হয়। খ্রিস্টযাগের পরেই খ্রিস্টভক্তগণ ক্রুশের প্রতি ভক্তি, ক্রুশের আশির্বাদ গ্রহণ এবং নীরবে প্রার্থনা করেন।
বিশপ জের্ভাস রোজারিও বলেন, ২০২৭ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ কোরিয়াতে বিশ্ব যুব দিবস উদযাপিত হবে। আর সে লক্ষ্যে বিশ্ব যুব ক্রুশ বাংলাদেশে এসেছে। এই ক্রুশ গ্রহণ করে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশ সৌভাগ্যবান। খ্রিস্টভক্তদের উপস্থিতি ও ক্রুশের প্রতি ভক্তি তাদের গভীর বিশ্বাসকেই প্রকাশ করে। এছাড়াও যুবক-যুবতীরা এই ক্রুশের নিকট থেকে অনুপ্রেরণা ও শক্তি লাভ করবে বলে আশা রাখি। কারণ আমরা প্রত্যেকে ক্রুশের চিহ্নে চিহ্নিত হয়েছি। যুব প্রতিনিধি এলিও মার্ডী বলেন, বিশ্ব যুব ক্রুশ পেয়ে আমরা আনন্দিত। যে সকল যুব বন্ধু হতাশা-নিরাশায় নিমজ্জিত তারা যুব ক্রুশের নিকট থেকে আশার আলো দেখতে পাবে।